সোমবার ১১ মে ২০২৬ ০৬:০৫:৪১ এএম
শিরোনাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদাবাজির মামলায় দুই সাংবাদিকের ৫ বছরের সাজা        পিরোজপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে অনুদান প্রদান করলেন জেলা প্রশাসক        চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুমিষ্ট আম চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারে আসবে, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাগানপাড়া       গাজীপুরে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা, ট্রাকে আগুন        উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে এনসিপির ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা        র‌্যাব-১২’র অভিযান, সলঙ্গায় হেরোইনসহ নারী মাদক সরবরাহকারী গ্রেফতার        কলাপাড়ার দেড়শ বছরের পুরোনো মসজিদে মুসল্লিদের দুর্ভোগ       
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘কাঁচা হাতে’ ভবন নির্মাণের হিড়িক
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
Published : Tuesday, 6 May, 2025
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘কাঁচা হাতে’ ভবন নির্মাণের হিড়িক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘কাঁচা হাতে’ ভবন নির্মাণের হিড়িক

গত দুই দশকে দ্রুত নগরায়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের চিত্র। গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় বহুতল ভবন। কিন্তু এসব ভবনের অধিকাংশই নির্মিত হয়েছে সরকারি বিল্ডিং কোড ও নিরাপত্তা নীতিমালা উপেক্ষা করে। এর ফলে বাড়ছে অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি।


শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, নিয়মিত তদারকি ও প্রকৌশল পরামর্শ ছাড়াই নির্মিত হচ্ছে দোতলা ও তিনতলা ভবন। ইটের গাঁথুনির উপর ভর করেই তৈরি হচ্ছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, যেখানে নেই পর্যাপ্ত কলাম, ভিত্তির কৌশল, অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা গ্যাস-বিদ্যুৎ লাইনের ছাড়পত্র।


পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি হোল্ডিং নম্বর রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দেড়শ'র বেশি বহুতল ভবন রয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোতেই ৬তলার অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৯ থেকে ১০তলা পর্যন্ত। তবুও পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যত নিরব।


নাগরিক সমাজ বলছে, এসব অনিয়মের দায়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কেউ নেবে না।

তরী বাংলাদেশের সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, “একটি শহর তিনজন ইঞ্জিনিয়ারের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফায়ার সার্ভিস বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সময় ভবনের ভেতরে প্রবেশই করতে পারে না। এসব রোধে পৌর কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে।”


জেলা নাগরিক ফোরামের সহ-সভাপতি নিহার রঞ্জন সরকার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতের কোনো দুর্যোগে এখানে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। কারণ, শহরটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।"


পৌর প্রশাসক শংঙ্কর কুমার বিশ্বাস জানান, “নিয়মবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছি। নতুন নির্মাণ কাজগুলোতে নিয়ম মানা না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, “আমার নজরে বিষয়টি এসেছে। যেসব ভবন ইতোমধ্যে নির্মিত হয়েছে, সেগুলো ভাঙার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পৌরসভার নেই। তবে নতুন নির্মাণ পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”


নগরায়নের গতি থামানো যাবে না, তবে নিরাপত্তা ও নিয়মের তোয়াক্কা না করলে সেটি হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের দুর্যোগ। সচেতন নাগরিকরা চান, এখনই হোক কার্যকর পদক্ষেপ—না হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এক সময় রূপ নিতে পারে ‘নিয়মহীন উন্নয়নের শোকগাথায়’।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com