
তীব্র জ্বালানি ঘাটতির কারণে মালিতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সামরিক সরকার। রোববার (২৬ অক্টোবর) এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে মালির শিক্ষামন্ত্রী আমাদু সি সাভান এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জ্বালানির সংকটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। মন্ত্রণালয় আশাবাদী, ১০ নভেম্বরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ক্লাস শুরু করা যাবে।
দেশটির সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আপাতত জ্বালানি সরবরাহ সীমিত থাকবে। তবে জরুরি সেবা, উদ্ধার অভিযান এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সচল রাখা হবে।
মালিতে চলমান এই জ্বালানি সংকটের সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বর মাসে। আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী জামায়াত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে জ্বালানি পরিবহন বন্ধে অবরোধ আরোপ করে। তারা সেনেগাল ও আইভরি কোস্ট থেকে আসা জ্বালানি ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে দেশের আমদানি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে।
গোষ্ঠীটির দাবি, সরকার গ্রামীণ অঞ্চলে জ্বালানি বিক্রি নিষিদ্ধ করায় প্রতিশোধমূলকভাবে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সরকারের দাবি, নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গিদের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা।
এই অবরোধে মালির অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, আর জ্বালানি নিতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিচ্ছেন মানুষ।
উল্লেখ্য, মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি। ২০২০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটি ফরাসি বাহিনীকে বহিষ্কার করে রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনারের সহায়তা নেয়, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তেমন কোনো উন্নতি দেখা যায়নি।