| Headline |
|
নির্বাচনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে বিচারিক ক্ষমতার দাবি সেনাবাহিনীর
|
|
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সেনাবাহিনী তাদের ভূমিকা আরও কার্যকর করতে ‘বিচারিক ক্ষমতা’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা বা অপতৎপরতা এড়াতে এই ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনের প্রাকপ্রস্তুতি সভায় ৫ আগস্টের পর তারা সিভিল প্রশাসনকে সহায়তার দায়িত্বে নিযুক্ত ছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর সরকার সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করে। তবে নির্বাচন কমিশনারদের একজন মন্তব্য করেছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কমিশন নিজে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. মনির হোসেন গত ৯ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর চেকপয়েন্ট বসানো, সীমান্ত ও সি-রুট সিল করা এবং দেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণসহ ২২টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনের দিনসহ মোট আট দিন তারা মোতায়েন থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়ক নিরাপত্তা, দ্রুত রেসপন্সে আর্মি এভিয়েশন প্রস্তুত রাখা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডও নির্বাচনী নিরাপত্তায় অংশগ্রহণ করবে। ৪৯২ উপজেলায় বিজিবির ১১ হাজার ৬০ প্লাটুন সদস্য মোতায়েনের সক্ষমতা রয়েছে। সেনাবাহিনী ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সদস্য মোতায়েন করতে পারবে। র্যাব প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার সদস্য দিয়ে ভ্রাম্যমাণ টিম পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। সীমান্তের দুই কিলোমিটারের মধ্যে সেনা মোতায়েন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। ৬০ উপজেলায় বিজিবি-র্যাব এবং ৩৭৭ উপজেলায় বিজিবি-সেনাবাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারা দেশে ২৮ হাজার ৬৬৩টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ৮ হাজার ২২৬টি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনাররা জানিয়েছেন, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, স্টেট অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান তৈরি করতে হবে এবং রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে। বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের পূর্বে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সতর্ক থাকতেও। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, অবৈধ অস্ত্রের যোগান রোধ, স্যাবোটাজ প্রতিরোধ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর প্রস্তুতি প্রয়োজন। কমিশন সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশনা প্রদান করবে, যাতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিরপেক্ষ ও পেশাদারভাবে কাজ করতে পারে। |