| Headline |
|
আমাদের কেন একজন গণহত্যাকারীর সত্যায়ন দরকার হলো: প্রেস সচিব শফিকুল আলম
|
|
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য—জুলাই বিপ্লবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছিল না—এটি এখন অনেকেই শেয়ার করছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বোঝার জন্য কেন একজন গণহত্যাকারীর সত্যায়ন প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর জুলাই বিপ্লব ছিল দেশের অন্যতম স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ। এটিকে যুক্তরাষ্ট্র-প্রণোদিত ঘটনা হিসেবে চালানো জনগণের অংশগ্রহণ ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল। শফিকুল আলম জানান, শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিগত ট্রমাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে জটিল পিটিএসডির প্রভাব স্পষ্ট ছিল। প্রায় প্রতিটি বড় বক্তব্যেই তিনি পরিবারের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলতেন, যা তার সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক আচরণকে প্রভাবিত করত। প্রেস সচিব বলেন, ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা প্রায়ই বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরতেন। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য একটি মার্কিন কোম্পানিকে গ্যাস রপ্তানির অনুমতি না দেওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে আরও অভিযোগ করেন, যদিও বিষয়টি নিয়ে কখনো কোনো মার্কিন কর্মকর্তা মন্তব্য করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে শেখ হাসিনা প্রায়ই নিজের তৈরি বয়ানে আটকে থাকতেন। তারপরও শেষ সময়ে তার ঘনিষ্ঠ সমর্থকরা তাকে অতিরিক্ত মর্যাদায় উন্নীত করেন। অনেকেই তাকে ‘জিন্দা পীর’ হিসেবে উল্লেখ করতেন। গণভবনে ‘কদম্বুসি’ একসময় প্রকাশ্য আনুগত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। শফিকুল আলম বলেন, এখনো কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন শেখ হাসিনা বিদেশি সমর্থনে নাটকীয়ভাবে আবার ক্ষমতায় ফিরবেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বহু শিক্ষিত, ধর্মনিরপেক্ষ শ্রেণিও এমন বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে আছেন। তাদের তিনি আখ্যা দেন ‘নীরব কদম্বুসিওয়ালা’—যারা প্রকাশ্যে আনুগত্য দেখাতে না পারলেও ব্যক্তিগতভাবে সুযোগ পেলে সেই আচরণে রাজি হবেন। |