| Headline |
|
তিন উপদেষ্টা একটি দলের হয়ে কাজ করছেন : তাহের
|
![]() অন্তর্বর্তী সরকারের তিনজন উপদেষ্টা সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থে কাজ করছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, এবং পরিকল্পিতভাবে এমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হয়। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আট দলীয় জোটের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এর আগের দিন জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তাহের দাবি করেন, অন্তত তিনজন উপদেষ্টা সরকারের সিদ্ধান্তকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন। তিনি জানান, এই ব্যক্তিদের নাম প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে নামগুলো প্রকাশ করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি সরকারের নমনীয় অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, অনিচ্ছাকৃত ভুল হোক বা ষড়যন্ত্র, সরকার ওই দলের প্রভাবের মধ্যে পড়ে সংস্কার প্রক্রিয়াকে গুরুত্বহীন করে ফেলেছে। তিনি মনে করেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হলে ভোটারদের মনোযোগ নির্বাচনে বেশি থাকবে এবং গণভোটের গুরুত্ব কমে যাবে। এতে কম উপস্থিতিকে ব্যবহার করে সংস্কারবিরোধীরা দাবি করতে পারে যে জনগণ সংস্কার চায় না। তাহের আরও অভিযোগ করেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ হুবহু গ্রহণ না করে সরকার একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে, যা জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। তবে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক ভিত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন, যদিও কমিশনের মূল প্রস্তাব অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন। সংস্কার কমিশন গণভোটকে এক প্যাকেজে নেওয়ার সুপারিশ করেছিল, কিন্তু সরকার তা চার ভাগে ভাগ করায় জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির আপত্তি মেনে এ বিভাজন করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাহেরের অভিযোগ, কিছু উপদেষ্টার সহায়তায় প্রশাসনে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে এবং একটি বিশেষ দলের অনুগত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কারণে সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে শঙ্কা ও আস্থাহীনতা বাড়ছে। তিনি বলেন, সব দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং তাদের আচরণে একটি দলের দাবি প্রাধান্য পাওয়া—সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেশকে পূর্ব নির্ধারিত একটি নির্বাচনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আট দলের পক্ষ থেকে তাহের দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আলাদা দিনে আয়োজনের ঘোষণা দিতে হবে। প্রশাসনে চলমান পরিবর্তনগুলোতে নিরপেক্ষ, সৎ ও জবাবদিহিমূলক ব্যক্তিদেরই দায়িত্ব দিতে হবে। তিনি জানান, শুক্রবার ঢাকায় নির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হলেও ঢাকার বাইরে কর্মসূচি যথারীতি চলছে এবং বিকেল পর্যন্ত চলবে। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দসহ আট দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রতিনিধিরাও সেখানে অংশ নেন। |