| Headline |
|
ছাত্র উপদেষ্টারা জুলাইকে বিক্রি করে দিয়েছে : মুনতাসির মাহমুদ
|
![]() জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর মহাসচিব আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির সাবেক দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ। তিনি দাবি করেন, সারা দেশে আদালতের জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়ার নামে আখতার হোসেন কোটি কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি লাইভে এসে এসব অভিযোগ করেন তিনি। তার ভিডিওটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। মুনতাসির মাহমুদ শুধু আখতার হোসেনকেই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং তার বড় ভাই মাহবুব আলমকেও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের তৈরি রাজনৈতিক দল এনসিপিতে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই তিনি এসব ঘটনার সাক্ষী ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে উপপরিচালক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু সংস্থাটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিয়োগের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর চাকরি হারান। পরে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দল থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরদিন থেকেই তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আনতে শুরু করেন। সর্বশেষ লাইভে তিনি জানান, আখতার হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জেলা আদালতে পিপি নিয়োগের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, নরসিংদীর আইনজীবী শিরিন আক্তার শেলীকে পিপি পদে বসানোর জন্য তদবির করা হলেও পরবর্তীতে আরেক নারীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের কারণে তালিকা থেকে শিরিনের নাম বাদ দেওয়া হয়। পরে তদবিরের চাপে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল শিরিন আক্তারকে পিপি হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর আখতার হোসেনের পক্ষ থেকে তার পিএস আতিক মুন্সির মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন মুনতাসির। তিনি আরও জানান, নিয়োগ পাওয়ার পর শিরিন আক্তার শেলী খুশি হয়ে নিজের গাড়িতে বসে আতিক মুন্সিকে এক লাখ টাকা দিলে আখতার হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ফোন করে পরিমাণ অনুযায়ী অর্থ দিতে নির্দেশ দেন। মুনতাসিরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন এবং প্রমাণও তার কাছে আছে। মুনতাসির মাহমুদ দাবি করেন, শুধুমাত্র পিপি নিয়োগ নয়, ডিসি-ওসি পদে বদলি, পেট্রোবাংলা, এসেনসিয়াল ড্রাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার নামেও বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে। তার মতে, জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র উপদেষ্টারা আন্দোলনের আদর্শ ও জনগণের প্রত্যাশাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। এসব তথ্য প্রকাশ করায় নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই মাহবুব আলমকেও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তার দাবি, উপদেষ্টার প্রভাব ব্যবহার করে মাহবুব আলম বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। লাইভের শেষ অংশে মুনতাসির ঘোষণা দেন যে তিনি ঢাকা-১২ আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করবেন। তিনি বলেন, সততার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি জনগণের দ্বারস্থ হবেন এবং প্রতিটি ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করবেন। |