| Headline |
|
আপিল না করলে গ্রেপ্তার হলেই শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
|
![]() মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তাদের আপিল ও রায় কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানিয়েছেন—রায়ের দিন থেকে নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে, পরবর্তীকালে গ্রেপ্তার হওয়া মাত্রই রায় কার্যকর হবে। বিশেষ আইনের বিধান অনুযায়ী সময়ের পরে আপিল গ্রহণ বা বিলম্ব মার্জনার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সাধারণ ফৌজদারি মামলায় আপিল দেরিতে করলেও তামাদি আইনের ৫ ধারা অনুসারে বিলম্ব মার্জনার সুযোগ থাকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বিশেষ বিধানধারী হওয়ায় এখানে সেই সুযোগ নেই। ফলে ৩০ দিন পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের হাতে আর কোনো আইনি পথ খোলা থাকবে না, শুধুমাত্র গ্রেপ্তার—তারপর রায় কার্যকর। প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের সঙ্গে আদালতের সম্পর্ক শেষ। তারা শুধু রায়ের সার্টিফায়েড কপি ও সাক্ষ্যপ্রমাণের নথি চাইতে পারবেন। এর বাইরে কোনো আবেদন ট্রাইব্যুনাল বিবেচনা করবে না। আপিল বিভাগই হবে তাদের একমাত্র গন্তব্য—সেটিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে। এদিকে রায় ঘোষণার একদিন পরও রায়ের অনুলিপি সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো যায়নি। আদালত-১-এর চেয়ারম্যান অসুস্থ থাকায় সার্টিফায়েড কপি ইস্যু বিলম্বিত হচ্ছে। রায়ের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলেই ইন্টারপোল নোটিশ, রেড নোটিশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ভারতকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠানো এখনো সম্ভব হয়নি, তবে নোট ভারবাল তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রায়ের কপি পাঠানো হবে না; নোট ভারবালের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হবে। প্রয়োজন হলে একাধিকবার কূটনৈতিক চিঠি দেওয়া হবে। ভারতীয় অবস্থান এখনো পরিবর্তন হয়নি—এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লির একাধিক নীতিনির্ধারক। তারা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দিল্লির অবস্থান যেমন ছিল, এখনো তেমনই আছে। বাংলাদেশের আদালতের রায় ভারতের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশনা তৈরি করে না। ফলে তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার প্রশ্ন “এই মুহূর্তে উঠে না” বলেই উল্লেখ করেছেন তারা। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজ বলেন, ভারত বিষয়টিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবেই দেখছে। ভারতের দৃষ্টিতে এটি রাজনৈতিক-সংবেদনশীল মামলা, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতির ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী মন্তব্য করেছেন, শেখ হাসিনা ভারতের কাছে দীর্ঘদিন “বিশ্বস্ত আঞ্চলিক অংশীদার” হিসেবে বিবেচিত। তাই দিল্লি এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা তাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখে ঠেলে দেয়। তিনি বলেন, “ভারত তাকে আমন্ত্রণ জানায়নি, কিন্তু চলে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে—এটাই দিল্লির অবস্থান ছিল এবং সেটি এখনো অব্যাহত।” অন্যদিকে ভারতের একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, দিল্লি একদিকে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে হাসিনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভকে বিবেচনা করছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের ক্ষমতার ভারসাম্যে আওয়ামী লীগের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বিকল্প দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথাও ভাবছে। তাদের মতে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন “সম্ভাবনার বাইরে”। ফলে ভারতের পরবর্তী কৌশল হবে—ঢাকার নতুন শক্তিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আপিল গ্রহণের সময়সীমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের না হয়, তাহলে রায় কার্যকরের পথ আইনি ও প্রক্রিয়াগতভাবে সহজ হয়ে যায়। সেই ক্ষেত্রে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক চাপ এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক—এ সবকিছুর ওপরই নির্ভর করবে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ। সূত্রঃ কালবেলা |